নিজস্ব প্রতিবেদক।। পুলিশ কর্মকর্তা হলেও অসহায় মানুষের কাছে মানবতার দেবতা হিসেবে পরিচিত ঢাকার আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হক দিপু। এতিমদের কাছে পুলিশ কর্মকতা হিসেবে নন, একজন পিতা হিসেবেই পাশে থেকে রেকর্ড গড়ে চলেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
সাম্প্রতিক করোনাভাইরাসের তটস্থ সারাদেশ । কিন্তু আশুলিয়া এলাকায় শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এ অঞ্চলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের বসবাসই বেশি পরিমান। আবার শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা অনেকাংশ হয়ে পড়েছে অসহায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সৃষ্ট অচলাবস্থায় আয় রোজাগার কমেছে এসব পরিবারগুলোর । অসহায় নিম্নবিত্তের পাশে সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন অনেকে। কিন্তু সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণি অর্থকষ্টে থাকলেও পারিপার্শ্বিক লোকলজ্জার ভয়ে সহযোগিতা চাইতে পারে না।
এ দুর্দশায় এ শ্রেণির লোকজনের বাড়িতে খাবার পৌছে দিচ্ছেন আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ। সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন না করে তাদের গোপনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। তার সমাদৃত এ উদ্যোগের সাধারন মানুষের হৃদয়ে স্থান পেয়েছেন তিনি।
জানা যায়, ২৯ এপ্রিল সকালে নাটোর থেকে চাকরি খুজতে আসা এক ছেলের করোনা পজেটিভ হয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে ঐ ছেলেটিকে আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম থেকে উদ্ধার করেন। এরপর সাভার উপজেলা প্রশাসক ও পুলিশের সহায়তায় তাকে পৌছে দেন কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল। দেন ছেলেটিকে প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাস।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল আশুলিয়ার বাইপাইলে আত্ন:সত্ত্বা নারী প্রসব বেদনায় আহাজারি করতে থাকেন। এ সময় আশুলিয়া থানার ওসির সহযোগিতায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে কন্যা সন্তান জন্ম দেন ওই নারী।

এছাড়াও আশুলিয়া শ্রমঘনবসতি এলাকা হওয়ায় সরকারি ত্রানের পাশাপাশি রাতের অধারে বাড়িতে গিয়ে খাবার পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক দিপু আমাদেরবাংলাদেশ.কমকে বলেন, “দেশের এই সংকটে পুলিশের নিরলস দায়িত্ব পালন এবং মানবিক কাজে এগিয়ে আসা জনগণের সঙ্গে দূরত্ব হ্রাস ও আস্থার সম্পর্ক সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশভীতি দূর হচ্ছে বলেই সহায়তা চাওয়া হচ্ছে। ভরসা করছেন মানুষ, পুলিশের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে দেওয়া অনুরোধ আসছে। গাড়ি করে গর্ভবতী নারী, রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হাসপাতালে বা কর্মস্থলে পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ। এ সময়ে জনগণের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারছে পুলিশ।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘস্থায়ী আস্থার সংকট দূর করে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার এখনই সময়। পুলিশের প্রতি জনসাধারণের দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট দূরীকরণে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। করোনার এই ক্রান্তিকালে স্থানীয় জনপ্রশাসনের পাশাপাশি বিত্তবান সকলে সাহায্যর্থে এগিয়ে আসারও আহবান জানান তিনি।